শত শত গ্রামার পড়েও ইংরেজী বলতে না পারার কারণ? (গল্প+কেস স্টাডি)

জামালপুরের শিবলু বয়স ২১ এবং পড়াশুনা করে ইকোনোমিক্স ৩য় বর্ষে।

ইংরেজী বলা শিখতে সে খুবই উৎসাহী। এজন্য সে অনেক অনেক গ্রামার রুলস মুখস্ত করে প্রতিদিন।

কিন্তু যখন সে কারো সামনে যেয়ে ইংরেজীতে কথা বলতে শুরু করে তখন মুখ থেকে কোনো কথায় যেনো বের হতে চায় না।

যদিও বা কিছু বাক্য সে বলতে পারে কিন্তু পরেক্ষণেই সে বুঝতে পারে তার কথার ভিতর কোনো একটা গ্রামার ভুল ছিল।

সে আসলে বুঝতে পারে না যে এত এত গ্রামার পড়ে মুখস্ত হয়েছে তার, কিন্তু কথা বলার সময় অনেকক্ষণ ভেবে ভেবে তারপর তাকে কথা বলতে হয় কেনো?


শিবলু বিষয়টি নিয়ে খুব চিন্তিত ।

তাই সে আবারো ঠিক করে যে তার হয়তো রুল পড়ায় ঘাটতি আছে,তাকে আরো রুল পড়তে হবে। এই ভেবে সে আবার ও গ্রামার এর রুলে ভরা বই নিয়ে পড়তে বসে। আর এভাবেই সে একের পর এক আরো বেশি গ্রামার পড়তে থাকে।


১ মাস পর সে দেখলো যে গ্রামার শেখা তার প্রচুর হয়েছে তবুও হঠাৎ কারো সামনে ইংরেজী বলতে গেলে এখনও পেটের কথা মুখে আসছে না, আর না হয় কোথাও বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেই।


সে বিষয়টি নিয়ে আরো চিন্তিত হয়ে পড়লো। কেনো এমন হচ্ছে?

আমি এত এত গ্রামার পারি কিন্তু কথা বলতে গেলে সেগুলোকে কেনো ব্যবহার করতে পারছিনা? প্রশ্নটা তার মনে বার বার নাড়া দিতে থাকে। সে ভাবে যে হয়ত তার দ্বারা আর সঠিক একসেন্ট এ ইংরেজী বলতে পারা সম্ভব হবেনা।


এমন সময় একদিন তাদের বাড়িতে তার খালাতো ভাই এরিক বেড়াতে আসে। এরিকরা শিবলুদের পাশের গ্রামেই থাকে আর পড়েও শিবলুর সাথেই।


সেদিন সন্ধ্যার সময় শিবলু তার পড়ার টেবিলে বসে একটানা গ্রামার শিখছিলো। আর এরিক তার পাশে বসেই মন দিয়ে পড়া শুনছিলো।


এরিক শিবলুর এত পরিমান গ্রামার পড়ার উপর জোর দেখে একটু ইতস্তত হয়ে প্রশ্ন করল- আচ্ছ তুমি এত বেশি গ্রামার কেনো মুখস্ত করছো?


শিবলু বলল আসলে আমি গ্রামার এর প্রায় সব কিছু ই জানি। সব রুলসই প্রচুর মুখস্ত করেছি । কিন্তু যখন কোনো প্রয়োজনে কথা বলতে যায়, তখন আমার কথা গুলো পেটে আসে কিন্তু মুখ থেকে বরুতে চায়না সহজে ।

তাই আমি বার বার এই রুলসগুলো মুখস্ত করছি যেনো প্রয়োজনে এই রুল গুলো ব্যবহার করতে পারি।
এরিক বলল দেখো শিবলু গ্রামার এমন কোনো মুখস্তের বিষয় নয়।

আর তুমি যদি কেবল এভাবে গ্রামার মুখস্ত করে যাও তাহলে ফলাফল হবে শূন্য।


শিবলু একটু আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করলো তাহলে আমি ইংরেজীতে কথা বলা শিখবো কিভাবে?

আমিতো গ্রামার মুখস্ত করেও কথা বলতে পারছিনা মুক্ত ভাবে। কথার ভেতর শুধুই একটা জড়তা ভাব থেকেই যাচ্ছে। কিভাবে আমি এটা থেকে মুক্ত থাকতে পারবো?


এরিক এবার প্রশ্ন করলো আচ্ছা তুমি যখন গ্রামার এর কোনো একটা টপিক শিখতে চেষ্টা করো তখন ওই টপিকটা দিয়ে কি নতুন নতুন অসংখ্য বাক্য বানাতে বা মুখে জোরে জোরে বলার প্র্যাকটিস করো?

শিবলু না বলে ধীরে মাথা নাড়ালো । আর বললো আমিতো কেবল রুল আর উদাহরণ মুখস্ত করি । নতুন বাক্য বানানো প্র্যাকটিস করিনা তেমন।


তখন এরিক শিবলুকে পরামর্শ দিলো যে আজ থেকে যখন গ্রামার এর কোনো একটা টপিক জানবে বা শিখবে তখন ওই টপিকটা দিয়ে অন্তত ৩০-৪০ বার বাক্য তৈরি করবে এবং আয়নার সামনে দাড়িঁয়ে মুখে বলার প্র্যাকটিস করবে।

কোনো পার্টনার এর সাথে ডায়লগ বা কথোপকথোন করে করে বার বার চর্চা করবে।

এভাবে প্র্যাকটিস করলে তোমার ভেতরে একটি মাসল পাওয়ার তৈরি হয়ে যাবে আর যখন ওই বাক্যটি বাস্তব লাইফে ব্যবহার করতে যাবে তখন দেখবে অটোমেটিক ওই কথা তোমার মুখ থেকে বের হবে।

আর স্পোকেন ইংরেজীতে এটাই হলো সবচেয়ে বড় টপিক ইংরেজী বলা শেখার ক্ষেত্রে ।

তুমি যদি জোরে জোরে উচ্চ স্বরে ইংরেজী বলে বলে চর্চা না করো তাহলে তোমার গ্রামার শেখাটা কোনো কাজেই আসবেনা।


শিবলু বলল আচ্ছা এবার আমি বুঝতে পেরেছি আমার ভুলটা কোথায়।

তবে আমার আর একটা প্রশ্ন এই যে ইংরেজীর এত এত গ্রামার এগুলো সব কি শেখার কোনো দরকার নেই তাহলে?


এরিক উত্তর দিলো বিষয়টি সেরকম নয়।

তুমি খুব অল্প রুল জেনেও যদি যথাযথ ভাবে দক্ষতার সাথে সেগুলো প্রয়োগ করতে পারো তাহলেই তুমি সফল ।

অন্যদিকে যদি হাজার হাজর রুল জেনেও সেগুলো বাস্তবিক জীবনে প্রয়োগ করতে না পারো তাহলে সেই রুল কোনো কাজেই আসবেনা তোমার ।

এরিক আরো বলল যে ইংরেজী বলতে শিখতে হলে তোমাকে বলে বলে প্র্যাকটিস করে শিখতে হবে, গ্রামার মুখস্ত করে নয়।


শিবলু এবার তার ভুল বুঝতে পারলো । সে এত দিন যদি মুখে মুখে বাক্য বানিয়ে, জোরে জোরে উচ্চারণ করার মাধ্যমে কথা বলা শেখার চর্চা করত তাহলে অনেক আগেই সে ভালো মত ইংরেজী বলা রপ্ত করতে পারতো ।


সেদিন এর পর থেকে সে গ্রামার শেখার উপর জোর না দিয়ে বেশি বেশি নতুন বাক্য তৈরি করা এবং সেটা জোরে জোরে বলে প্র্যাকটিস করা শুরু করলো ।

ইংরেজীতে লেখা গল্পের বই, ম্যাগাজিন, কবিতা সব কছুই সে পড়ার সময় লাউড দিয়ে জোরে জোরে পড়ত। এতে তার মুখের জড়তা ধীরে ধীরে কেটে যেতে থাকলো।

প্রথম দিকে তার যে কথা গুলো মুখে আসতো না সেগুলো সে আরো উচ্চ স্বরে লাউড দিয়ে বলে বলে প্র্যাকটিস শুরু করে দিলো ।

যখনই কোথাও কোনো মুভিতে বা গানে ইংরেজী বলতে শুনতো সাথে সাথে সে মুখ নেড়ে বলার চেষ্টা করতো বাক্যটি ।

এভাবে বার বার সে বলে বলে তার মুখের জড়তা ২ মাসের ভেতরই দূর করে ফেলল।
শিবলু এখন আরো জানতে শিখলো যে ইংরেজী হলো বাস্তবিক লাইফে বেশি বেশি বলার মাধ্যমে আয়ত্ত করার বিষয়।

আর প্রথম দিকে যদিও বলে বলে শিখতে কিছুটা জড়তা আসতে পারে কিন্তু বলতে বলতে এক সময় সেই জড়তা আর থাকেনা। তখন বাক্য ভেবে ভেবে বানানো আগেই অটোমেটিক মুখে চলে আসে।

আর শিবলু এটাও বুঝতে শিখলো যে ইংরেজী স্পোকেন শিখতে আগ্রহ, ধৈর্য্য, প্র্যাকটিস আর বেশি বেশি জোরে জোরে উচ্চারণ করে বলাটা খুব জরুরি।

যদিওবা শুরুর দিকে কিছু ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক।


এরিক শিবলুকে যেদিন পরামর্শ দিয়েছিলো ইংরেজীতে কথা বলা শেখার বিষয়ে তার পরের দিনই এরিক তার নিজের বাসায় ফিরে গিয়েছিল।


শিবলু এখন মনে মনে ভাবে এইযে বাংলাদেশের এত লাখ লাখ ছেলে মেয়ে ইংরেজীতে শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতে ব্যর্থ হচ্ছে এর পিছনে বড় একটা করণ শুধু মাত্র গ্রামার রুল মুখস্ত করার প্রবণতা।

তাই সে সেদিন থেকে প্রতিজ্ঞা করল যে এখন থেকে সে সম্ভব হলেই তার নিকটবর্তী ছেলে মেয়েদের কেবল গ্রামার রুল নির্ভর মুখস্ত পড়া না শিখে সঠিক পদ্ধতিতে স্পোকেন ইংলিশ শিখতে উৎসাহিত করবে।


গল্পটি থেকে আমরা যা যা জানতে পারলাম।


1.গ্রামার কোনো মূল বিষয় নয় ইংরেজীতে বরং গ্রামারকে একটা উপকরণ হিসেবে নিয়ে সঠিক ভাবে ইংলিশ বলতে পারার চর্চা করাটাই মুখ্য।


2.অল্প রুলস বা শব্দার্থ জেনেও সঠিক ভাবে ইংরেজী বলতে পারাটাই জরুরি।
ইংরেজী বলতে শিখতে হলে বেশি বেশি ইংরেজী বলার মধ্যমে প্র্যাকটিস করতে হবে।


3.কেবল মাত্র ইংরেজী শুনে,পড়ে বা লিখে ইংরেজী শেখা যায়না । যদি না সাথে সাথে ইংরেজী বলার প্র্যাকটিস না করা হয়।

শত শত গ্রামার পড়েও ইংরেজী বলতে না পারার কারণ? (গল্প+কেস স্টাডি)
ইংরেজী বলতে না পারার কারণ

frlmamun

আমি এফ. আর. আল-মামুন । আমারহাট ডট কম ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা । আমি সৃষ্টিশীল কাজ করতে পছন্দ করি এবং যারা সৃষ্টিশীল কাজ করে তাদেরকে ভালোবাসি । আপনিও যদি সৃষ্টিশীল কিছু করতে চান তাহলে আপনিও আমারহাটে আমন্ত্রিত!!! ধন্যবাদ।

Leave a Reply