কম্পিউটার টাইপিং শেখার সহজ নিয়ম।কম্পিউটার টাইপিং এ ঝড় উঠবে এবার

আমরা যারা অনেকে কম্পিউটার ব্যবহার করি তারা যদিও টুকটাক লেখালেখি করতে পারি। কিন্তু প্রবলেম হয়ে যায় বিভিন্ন জবের জন্য এপ্লাই করার সময় যে মানের স্পিড চায় তা আমাদের সকলের প্রায়ই থাকেনা।

আজ আমরা শিখবো কিভাবে কম্পিউটার টাইপিং এ ফাস্টেস্ট স্পিড তোলা যায় তা নিয়ে।

আর দেরি কেনো চলুন শুরু করা যাক।

১ম নিয়মঃ বাংলা অক্ষরযুক্ত কিবোর্ড ব্যবহার করুন।

অনেক ল্যাপটপ এ বাংলা কি যুক্ত করা থাকেনা। নতুনদের জন্য এটি বেশ ঝামেলার একটি কারণ হয়ে দাড়াঁয়।

তাই টাইপিং শেখার জন্য আপনি একটি আলাদা বাংলা অক্ষরযুক্ত কিবোর্ড ব্যবহার করুন।

এতে আপনার জন্য অনেক সুবিধা হবে টাইপিং গতি ফাস্ট করতে।

২য় নিয়মঃ আঙুল সঠিক ভাবে কিবোর্ডে প্লেস করুন।

আঙুল সঠিক ভাবে রাখার নিয়ম হচ্ছে দুহাত আলতোভাবে কিবোর্ড এর উপর রাখতে হবে।

বাম হতের little finger (A চিহ্নের উপর রাখুন ) এভাবে পর পর ring, middle, grooming, thumb Finger গুলো যথাক্রমে S, D, F এর উপর রাখুন।

এবার ডান হতের grooming finger (J এর উপর রাখুন ) এর পরের আঙুল গুলো ধারাবাহিক ভাবে K, L, ; চিহ্নের উপর রাখুন।

অনেকে এভাবে আঙুলের প্লেসমেন্ট ঠিক মতো করতে চাইনা। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্পিডে টাইপিং করা সম্ভব হয়না। সুতরা আপনার যত কষ্টই হোক না কেনো প্রথম দিকে আপনি এভাবেই টাইপিং প্র্যাকটিস করতে থাকবেন।

একটা বিষয় মনে রাখবেন আপনার হাতের আঙুলগুলো সব সময় কি বোর্ডের মাঝের সারিতে থাকবে।

অর্থাৎ asdfghjkl; এই সারিতে হাতের আঙুলগুলো আলতো ভাবে রাখতে হবে।

এবার নিচের মতো করে আঙুল গুলো সামনে পিছনে নেবার চর্চা করুন।

বাম হাতের লিটল ফিংগার দিয়ে ‍উপরে Q আর নিচে Z টাইপ করতে হবে।

বাম হাতের রিং ফিংগার দিয়ে উপরে W এবং নিচে X টাইপ করতে হবে।

এরপর বাম হাতের মিডল্ ফিংগার দিয়ে উপরে E এবং নিচে C টাইপ করতে হবে।

শেষে বাম হাতের গ্রুমিং ফিংগার বা ফার্স্ট ফিংগার দিয়ে উপরে R এবং নিচে V টাইপ করতে হবে।পাশাপাশি এই আঙুল ব্যবহার করে T G B ও টাইপ করতে হবে।

এভাবে ডান হাতের আঙুল গুলো দিয়ে নিচের মতো প্র্যাকটিস করতে হবে।

ডান হাতের লিটল ফিংগার দিয়ে ‍উপরে P আর নিচে / টাইপ করতে হবে।

ডান হাতের রিং ফিংগার দিয়ে উপরে O এবং নিচে . টাইপ করতে হবে।

এরপর ডান হাতের মিডল্ ফিংগার দিয়ে উপরে I এবং নিচে , টাইপ করতে হবে।

শেষে ডান হাতের গ্রুমিং ফিংগার বা ফার্স্ট ফিংগার দিয়ে উপরে U এবং নিচে M টাইপ করতে হবে।পাশাপাশি এই আঙুল দিয়ে Y H N ও টাইপিং করতে হবে।

আর দুই হাতেরই থাম্ব ফিংগার দিয়ে স্পেসবার কি চাপতে হবে।

এভাবে আপনাকে রেগুলার প্র্যাকটিস করতে হবে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ। তাহলে দেখবেন আপনার হাত কিবোর্ডের উপর নিলে অটোমেটিক কি গুলোর উপর সঠিকভাবে প্লেসমেন্ট হয়ে যাচ্ছে।

নতুন অনেককেই আমি দেখেছি যে প্রথম দিকে আঙুল গুলো রাখতে কষ্ট হয়ে এজন্য আঙুল গুলোকে সঠিক স্থানে রাখে না ।

এতে টাইপ করার সময় সর্বোচ্চ স্পিড পাওয়া যায় না। তাই আমি বলব যত অসুবিধায় হোক প্রথম দিকে আপনি আঙুল গুলো সঠিক স্থানে রেখেই টাইপ করতে চেষ্টা করুন।

আমরা কিছু নিয়ম জানলাম এবার আমরা টাইপিং এর কিছু লেসন শিখবো।

টাইপিং শেখার প্রয়োজনীয় কিছু লেসন

লেসনঃ১

বাম হাতের লিটল ফিংগার দিয়ে A, রিং ফিংগার দিয়ে S, মিডল ফিংগার দিয়ে D এবং গ্রুমিং ফিংগার দিয়ে F ও G চাপার প্র্যাকটিস করুন।

এভাবে আবার উল্টা করে প্রথমে গ্রুমিং ফিংগার দিয়ে F ও G, মিডল ফিংগার দিয়ে D, ‍রিং ফিংগার দিয়ে S, লিটল ফিংগার দিয়ে A চাপুন।

ডান হাতের লিটল ফিংগার দিয়ে ; , রিং ফিংগার দিয়ে L, মিডল ফিংগার দিয়ে K এবং গ্রুমিং ফিংগার দিয়ে J ও H চাপার প্র্যাকটিস করুন।

এভাবে আবার উল্টা করে প্রথমে গ্রুমিং ফিংগার দিয়ে J ও H, মিডল ফিংগার দিয়ে K, ‍রিং ফিংগার দিয়ে L, লিটল ফিংগার দিয়ে ; চাপুন।

এভাবে একবার ডান হাত একবার বাম হাত দিয়ে টাইপ করতে করতে মুখস্ত করে নিন কি গুলো।

এবার এই শব্দগুলো টাইপ করার চর্চা করুন ask, jalal, kajal,flags, dash, flasks, dhaka, add, shall.

এবার আপনি shift কি চেপে শব্দের প্রথম অক্ষরগুলো বড় হতে করে টাইপ করতে চেষ্টা করুন। যেমন ‍Ask, Jalal, Kajal ইত্যাদি।

লেসনঃ২

এবার বাম হাতের আঙুল গুলো দিয়ে q w e r t আর বাম হতের আঙুল গুলো দিয়ে y u i o p টাইপিং প্র্যাকটিস করুন।

লেসন ১ এ যেভাবে হাত অদল বদল করে টাইপিং করতে বলা হয়েছে এখানেও সেভাবে হাত বদল করে করে টাইপ করুন।

যখন কি গুলো মুখস্ত হয়ে যাবে তখন এই শব্দ গুলো টাইপ করতে চেষ্টা করুন wert, owert, your, poit, erport, popy, onil, rew, tropy, quiet ইত্যাদি।

এবার আপনি shift কি চেপে শব্দের প্রথম অক্ষরগুলো বড় হতে করে টাইপ করতে চেষ্টা করুন। যেমন Wert, Owert, Your এভাবে।

লেসনঃ৩

এবার আমরা কিবোর্ড এর নিচের সারি প্র্যাকটিস করবো । আমরা ফিংগার এর প্লেস মেন্ট আগেই দেখেছি।

এবার চর্চা শুরু করার পালা। বাম হাতের আঙুল দিয়ে z x c v আর ডান হাতের আঙুল দিয়ে b n m , . কি গুলো টাইপ করতে হবে।

হাত বদল করে করে প্র্যাকটিস করুন অসংখ্য বার । যখন আপনার কি গুলো মুখস্ত হয়ে যাবে তখন আপনি নিচের শব্দ গুলো টাইপ করুন।

bcxz, bcn, xcv, mbxc, mxcz, nme, mbvn, mvbc ইত্যাদি।

এবার আপনি shift কি চেপে শব্দের প্রথম অক্ষরগুলো বড় হতে করে টাইপ করতে চেষ্টা করুন। যেমন Bcxz, Bcn, Xcv, Mbxc এভাবে।

লেসনঃ৪

আশা করা যায় উপরের লেসনগুলো আপনার ভালো ভাবে প্র্যাকটিস করেছেন। এবং কিগুলো আপনাদের অনেক ভালো ভাবে মুখস্ত হয়ে গেছে। এখন আপনারা যে কোনো ইংরেজী পত্র পত্রিকা বা বই দেখে দেখে টাইপ করার চেষ্টা করুন।

তবে এর পূর্বে আর একটি কাজ আপনারা করে নিলে ভালো হবে। তা হচ্ছে নিচের লাইনটা আপনারা ওয়ার্ড প্যাড ওপেন করে কম্পিউটারে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ বার টাইপ করার চেষ্টা করুন।

Quick brown fox jumps over the lazy dog.

এই বাক্যটি এমন একটি বাক্য যার ভিতরে ইংরেজী বর্ণমালার সবগুলো বর্ণই দেয়া রয়েছে। আশা করছি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে বাক্যটি।

লেসনঃ৫

আমরা মোটামুটি টাইপের ব্যসিক গুলো যেনে নিয়েছি । এখন আমাদের সংখ্যা এবং চিহ্ন যেগুলো বাকি রয়েছে সেগুলো টাইপ শিখতে হবে।

আমরা সংখ্যা টাইপ করা এবং বিশেষ চিহ্ন টাইপ করার জন্য কিছু পত্র পত্রিকা বা ইংরেজী বই এর সাহায্য নিতে পারি।

এভাবে আমরা সংখ্যা বা বিশেষ চিহ্ন গুলো নিজে নিজেই টাইপ করা শিখতে পারি। টাইপিং শেখার সময় কোনো কি এর উপরের চিহ্নগুলো টাইপ করতে shift কি ব্যবহার করতে হবে।

এভাবে বার বার প্র্যাকটিস করার মাধ্যমে আমরা আমাদের টাইপ করার গতি অনেক বাড়িয়ে নিতে পারি।

টাইপিং স্পিড দ্রুত করার বিশেষ কিছু টিপস

  • কিবোর্ড এর উপর বেশি চাপ দিয়ে আঙুল রাখবেননা। বরং আলতো করে আঙুল রাখুন যেনো খুব সহজেই আঙুল গুলো বিভিন্ন কি এর উপর মুভ করতে পারেন।
  • দুই হাতের কনুই টেবিল থেকে দুরে রাখুন । খেয়াল রাখবেন কনুই যেনো খুব বেশি উচু বা নিচু না হয়ে থাকে। কমফোর্টেবল ফিল করেন এমন স্থানে কনুই থাকবে।
  • টাইপিং করার সময় কিবোর্ড এর দিকে তাকিয়ে টাইপ করবেন না। বরং আপনি কম্পিউটার স্ক্রিন এর উপর দৃষ্টি রাখবেন।
  • দৈনিক ১ ঘন্টা করে টাইম আপনি টাইপিং চর্চার জন্য রাখবেন। এভাবে ১ মাস প্র্যাকটিস করলেই আপনার টাইপিং স্পিড দ্রুত হয়ে যাবে।
  • টাইপিং করার সময় চেয়ার টেবিল এ বসে টাইপ করলে দ্রুত টাইপ করা যায়।
  • চেয়ারে বসলে এমন ভাবে বসতে হবে যেনো আপনার হাত ও কিবোর্ড এর অবস্থান সমান থাকে। খুব বেশি উঁচু বা নিচু হয়ে যেনো না যায়।
  • যত বেশি টাইপ করতে থাকবেন কিগুলো আপনার তত বেশি মুখস্ত হয়ে যেতে খাকবে। এতে আপনার গতি ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ পর্যায় এ যেয়ে পৌঁছাবে।
  • ইংরেজী বই , পত্রিকা ইত্যাদি দেখে দেখে প্রতিদিন কয়েক পাতা করে টাইপ করুন। পাশাপাশি আপনি বিভিন্ন বন্ধুর সাথে চ্যাটিং করার মাধ্যমেও টাইপিং এ কিছুটা গতি আনতে পারেন।

শেষকথা

আজকে আমরা টাইপিং শেখার বিষয় নিয়ে জানতে চেষ্টা করলাম। আজকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য টাইপিং জানা থাকাটা খুবই জরুরি।যদিও অনেকেই অলসতা বা অসচেতনতার কারণে টাইপিং শেখাটাকে খুব একটা ‍গুরুত্ব দেয়না। কিন্ত এটা মোটেও সঠিক নয়।

সময় এর সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে হলে আপনাকে অবশ্যই দ্রুত গতি সম্পন্ন কম্পিউটার টাইপিং শিখতে হবে। নতুন শতাব্দীতে পথ চলতে হলে টাইপিং জানা থাকাটা আপনার জন্য অতিব জরুরি। তাই আর সময় উৎক্ষেপণ না করে আজ থেকেই শুরু করে দিন টাইপিং চর্চা।

কম্পিউটার টাইপিং শেখার সহজ নিয়ম।কম্পিউটার টাইপিং এ ঝড় উঠবে এবার
টাইপিং শেখার সহজ নিয়ম

frlmamun

আমি এফ. আর. আল-মামুন । আমারহাট ডট কম ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা । আমি সৃষ্টিশীল কাজ করতে পছন্দ করি এবং যারা সৃষ্টিশীল কাজ করে তাদেরকে ভালোবাসি । আপনিও যদি সৃষ্টিশীল কিছু করতে চান তাহলে আপনিও আমারহাটে আমন্ত্রিত!!! ধন্যবাদ।

Leave a Reply