কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়। সর্বশেষ আপডেট তথ্য ২০২০

কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধে আজকে কার্যকরী বেশ কিছু নিয়ম শিখবো যা আমাদের সকলেরই জানা থাকা খুবই জরুরি।

ভাইরাস আক্রান্ত পিসিকে সম্পূর্ণ ভাবে ভাইরাস মুক্ত করা সম্ভব। কিন্তু একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে ভাইরাস দূর করার সময় অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল কম্পিউটার থেকে হারিয়ে বা মুছে যেতে পারে।

এখন আমরা পরবর্তী ধাপে ভাইরাস প্রতিরোধের উপায় গুলো একে একে দেখবো।

খুবই প্রয়োজন ছাড়া এক্সটার্নাল হার্ড ডিস্ক বা পেন ড্রাইভ ব্যবহার না করা

বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া বাহিরের কোনো হার্ড ডিস্ক বা পেন ড্রাইভ , মেমোরি কার্ড এগুলো আপনার কম্পিউটারে ঢোকানো যাবে না। আর যদি এগুলো ব্যবহার করতেই হয় তাহলে আপনাকে ভালো করে ভাইরাস চেক করে নিয়ে এর নিয়ে এর পর ব্যবহার করতে হবে।

ভাইরাস চেক করার সময় ভাইরাস পেলে ত ভালো করে রিমুভ বা ডিলিট করতে হবে।

সিডি বা ডিভিডি ড্রাইভ ব্যবহারের পূর্বে স্ক্যান করা

পিসিতে যদি সিডি বা ডিভিডি থাকে তাহলে আপনি এটা যখন ব্যবহার করতে যাবেন তার পূর্বে ভালো করে ভাইরাস স্ক্যান করে নিবেন।

যদি চেক করার সময় ভাইরাস পাওয়া যায় তাহলে এই ডিস্ক এর কোনো ফাইল কপি বা পেস্ট করবেন না।

এতে আপনার পিসিতে ভাইরাস এ্র্যাটাক হবার সম্ভাবনা থেকে যাবে। এর পিছনে করণ হলো সিডি বা ডিভিডি রাইট করার সময় এতে ভাইরাস পাওয়া গেলেও এন্টিভাইরাস সফ্টওয়্যার তা মুছে ফেলতে পারেনা ।

সুতরাং ডিভিডি ড্রাইভ ব্যবহারে সতর্ক হোন এখন থেকেই।

মোবাইল হতে কপি করে কোনো ফাইল ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

বিভিন্ন মোবাইল ফোন থেকে যদি আপনি আপনার পিসিতে অডিও/ভিডিও/সফ্টওয়্যার ইত্যাদি ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে।

পারত পক্ষে এভাবে কোনো কিছু শেয়ার করে না নেওয়াটাই বেটার । তবুও যদি একান্তই প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে ভালো করে এন্টিভাইরাস দিয়ে চেক করে তার পর নেওয়াটাই সব থেকে ভালো হবে।

এন্টিভাইরাস ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখবেন তা জেনো আপডেটেড হয়।

কারণ আপডেটড ছাড়া এন্টিভাইরাস এর কোনো কার্যকারিতা থাকে না।

ডিএসএলআর ক্যামেরা থেকে ছবি বা ভিডিও কপি নেয়ার সময় সতর্ক থাকুন

DSLR ক্যামেরা থেকে আমাদের প্রায়ই ছবি বা ভিডিও কাট করে নেয়ার প্রয়োজন হয়।

আর অনেকেই এক্ষেত্রে একদমই সতর্ক থাকেনা ভাইরাস চেক করার ব্যাপারে। যদি আপনি ভাইরাস ভালো করে চেক না করে নেন তাহলে আপনার পিসি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।

এসময় আপনাকে অবশ্যই কোনো ফাইল কপি করে নেবার পূর্বে ভালো করে এন্টিভাইরাস দিয়ে চেক করে নিতে হবে।

কোনো ভাইরাস শনাক্ত হলে ভালো করে তা রিমুভ করে নিতে হবে।

সর্বদা আপডেটেড এন্টিভাইরাস ভার্সন ব্যবহার করা।

আপনি ফ্রি বা পেইড যে ভার্সনেরই এন্টিভাইরাস ব্যবহার করেন না কেনো আপনাকে অবশ্যই আপডেটেড ভার্সন ব্যবহার করতে হবে।

কারণ পূর্বের ভার্সন গুলো সঠিক ভাবে ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারেনা। আর এই সুযোগে আপনার পিসি ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই এখনই চেক করুন আপনার এন্টিভাইরাস আপডেটেড কিনা।

যদি আপডেটেড না হয় তাহলে যত দ্রুত সম্ভব আপডেট করে নিন।

অনেকেই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় না । ফলে এন্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করলেও তা ভাইরাস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারেনা।

কাজ শেষে প্রয়োজনীয় ডাটার ব্যাকআপ রাখা

আপনার যখন পিসিতে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের কাজ সম্পন্ন হবে তখন ওই ফাইলের একটি ব্যাকআপ নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে রাখবেন।

আর সংরক্ষণ করার পূর্বে চেক করে নিবেন যেখানে সংরক্ষণ করছেন সেই জায়গা বা ফোল্ডারটি ভাইরাস মুক্ত কিনা।

এভাবে প্রয়োজনীয় ডাটার ব্যাকআপ রাখলে আপনা ভাইরাস এ্যাটাক থেকে আপনার দরকারী ফাইলগুলোকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম হবেন।

সব পোগ্রামের COM এবং EXE জাতীয় ফাইল গুলোকে read only করে রাখা

ভাইরাস মূলত com বা exe এ জাতীয় এক্সটেনশন যুক্ত ফাইলকে বেশি আক্রমন করে । তাই আপনি এই জাতীয় ফাইল গুলোকে রিড অনলি করে রাখতে পারেন।

এতে করে ভাইরাস থেকে আপনার পিসিকে নিরাপদ রাখতে পারবেন।

নিয়মিত পিসি এন্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করা

নিয়মিত ভাবে আপনকে এন্টিভাইরাস দিয়ে পুরো পিসি স্ক্যান করতে হবে।

স্ক্যান এর ফলাফল হিসেবে যদি কোনো ভাইরাস শনাক্ত হয় তাহলে তা রিমুভ করতে হবে বা ভালো করে ডিলিট করে নিন। অবহেলা বশত অনেকেই তাদের পিসি নিয়মিত ভাইরাস স্ক্যান করে না। ফলে খুব সহজেই পিসিতে ভাইরাস এর আক্রমন দেখা দেয়।

ইন্টারনেট থেকে ফাইল ডাউনলোডের পূর্বে ভাইরাস স্ক্যান করে নেয়া

ইন্টারনেট থেকে যখন কোনো ফাইল আপনি ডাউনলোড করতে যাবেন তখন আপনি এন্টিভাইরাস সফ্টওয়্যার দ্বারা ফাইলটি চেক করে নিবেন। এতে করে আপনার পিসিতে ভাইরাস বা ম্যালওয়ার আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকবে।

কারণ বর্তমানে অধিকাং ভাইরাস ইন্টারনেট ডাউনলোড থেকেই ঘটে থাকে। তাই আপনি পারত পক্ষে অনিরাপদ কোনো ওয়েবসাইট থেকে কোনো ফাইল ডাউনলোড করবেন না।

যদি একান্তই প্রয়োজন হয় তাহলে স্ক্যান করে নিবেন প্রথমে।

অপরিচিত ইমেইল থেকে আসা ইমেইল এর সাথে এটাচ করা ফাইল ওপেন করার বিষয়ে সতর্ক থাকা

আপনার ইমেইল আইডিতে যদি অপরিচিত কোনো ইমেইল আসে এবং এর সাথে কোনো অনিরাপদ ফাইল এটাচ করা থাকে তাহলে আপনার কখনোই ওই ইমেইল ওপেন করা উচিত হবে না।

কেননা যারা ভাইরাস বিস্তার করে থাকে তারা ইমেইল এর মাধ্যমেই অধিকাংশ ভাইরাস বিস্তার ঘটিয়ে থাকে।

কাজেই আজ থেকেই এ ব্যাপারে সতর্ক হোন যেনো আপনি আপনার পিসি বা ল্যাপটপকে ভাইরাস এর হাত থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে পারেন।

থার্ড পার্টি বা পাইরেটেড কোনো সফ্টওয়্যার পিসিতি ইনস্টল না করা

ট্রাস্টেড কোনো সাইট ছাড়া থার্ড পার্টি কোনো সফ্টওয়্যার থেকে সফ্টওয়্যার আপনার পিসিতে ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।

যারা এন্ড্রয়েড সেট ব্যবহার করেন তারা প্রায়ই প্লে স্টোর ছাড়া অন্য জায়গা থেকে এপস্ নিয়ে ব্যবহার করেন। এতে আপনার শখের হ্যান্ডসেট টিতে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।

তাই এভাবে যেকোনো থার্ড পার্টি থেকে এপস বা সফ্টওয়্যার নিয়ে পিসি বা ফোনে ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।

আর যদি ইতমধ্যেই আপনারা এ জাতীয় সফ্টওয়্যার ইনস্টল করে ফেলে থাকেন তাহলে যত দ্রুত পারা যায় তা এন্টিভাইরাস দ্বারা চেক করে নিন।

বোনাস কিছু টিপস

  1. ইন্টারনেট বা ল্যান ব্যবহারকারীরা এগুলো ব্যবহারের পূর্বে এন্টিভাইরাস এবং ফায়ারওয়াল চালু করে রাখুন।
  2. কম্পিউটার স্টার্টআপের সময় ভাইরাস প্রতিরক্ষক হিসেবে প্ররিরক্ষক গার্ড সক্রিয় করে রাখুন।
  3. পপ আপ নোটিফিকেশন ব্লকার ব্যবহার করুন। এতে অপরিচিত কারো কাছ থেকে ইমেইল আসা আপনি কমিয়ে দিতে পারবেন।
  4. পেইড এন্টিভাইরাস অপেক্ষা ফ্রি এন্টিভাইরাস খুব একটা পার্থক্য হয় না।তবে আপনার যদি খুব বেশি সিকিউরিটি দরকার পড়ে তবে পেইড এন্টিভাইরান ব্যবহার করতে পারেন।
  5. মাইক্রোসফ্ট ‍সিকিউরিটি এসেনশিয়াল এবং এভাস্ট এই দুটি ভালো মানে ফ্রি এন্টিভাইরাস।

কম্পিউটার  ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়। সর্বশেষ আপডেট তথ্য ২০২০
কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়

frlmamun

আমি এফ. আর. আল-মামুন । আমারহাট ডট কম ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা । আমি সৃষ্টিশীল কাজ করতে পছন্দ করি এবং যারা সৃষ্টিশীল কাজ করে তাদেরকে ভালোবাসি । আপনিও যদি সৃষ্টিশীল কিছু করতে চান তাহলে আপনিও আমারহাটে আমন্ত্রিত!!! ধন্যবাদ।

Leave a Reply