জব সল্যূশন কমপ্লিট করার সহজ কৌশল।

চাকরির বাজারে আজকাল তার ভ্যালু সর্বাধিক যার একটি জব সল্যূশন সম্পূর্ণ আয়ত্তে আছে । অন্যদের চেয়ে প্রতিযোগীতায় আপনি ৩ ধাপ এগিয়ে থাকতে পারবেন যদি আপনার একটি জব সল্যূশন আয়ত্তে থাকে। আমরা জব সল্যূশন এর উপর বিভিন্ন ক্যাডার দের পরামর্শ গুলো নোট করার মাধ্যমে নিচের টেকনিক গুলো প্রকাশ করেছি।

এই অনুচ্ছেদটি লেখার পূর্বে আমরা ব্যাপক ভাবে পর্যালোচনা, বিভিন্ন বই এর সহায়তা, কিছু ক্যাডারদের উক্তি সবকিছু একত্রিত করে আপনাদের উপকারের জন্য গুছিয়ে উপস্থাপন করেছি। এককথায় বলা যেতে পারে এই অনুচ্ছেদটি একটি রিসার্চ মূলক অনুচ্ছেদ । লেখক কেবলমাত্র ক্যাডারদের উক্তিগুলোকে একত্রিত করে পয়েন্ট আকারে প্রকাশ করেছে।

জব সল্যূশন শেষ করতে যে ভুল গুলো অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী করে থাকেঃ

  • জব সল্যূশন কে বড় করে চিন্তা করে।
  • ভাবে যে এক মাথা থেকে অপর মাথা শেষ করেই ছাড়বে।
  • যদিও বা শেষ করে পরের বার আর রিভিশন করেনা।
  • রিভিশন করলেও ২/৩ বারের বেশি করে না। ফলে তা কাজে আসে না।

সঠিক টেকনিকঃ

  1. চিন্তাটা একটু পাল্টিয়ে সালের ভিত্তিতে চিন্তা করুন। যেমন ভাবুন ২০১৯-২০১০ একটি অংশ । আর ২০০৯ -২০০০ সাল একটি অংশ।
  2. এবার জব সল্যূশন কে সাল অনুযায়ী দুটি সমান ভাগে ভাগ করে সেলাই করে নিন ।
  3. প্রথমে কেবল মাত্র ২০১৯ থেকে ২০১০ একবার রিডিং পড়ে নিন।মুখস্ত নয় আগেই। সময় নিন ১ সপ্তাহ।ব্যাখ্যা বুঝে না পড়লে আপনার পড়াটি কর্যকর হবেনা বেশি।সুতরাং ব্যাখ্যা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
  4. দ্বিতীয়বার আবার ও ২০১৯-২০১০ পড়তে শুরু করুন । এবার হাতে রঙিন কলম বা পেন্সিল রাখুন। প্রথমবার পড়ার ভিতর থেকে যেগুলো আপনার খুব সহজেই মনে আছে সেগুলো দাগাবেন না । বরং যেগুলো মনে নেই সেগুলোকে একটু ছোট করে চিহ্ন করে রাখুন। সময় নিন ৫-৬ দিন।
  5. তৃতীয়বার আবারও ২০১৯-২০১০ হতে নিন। এবার দেখবেন পূর্বের থেকে বেশি মনে আছে । আর যেগুলো মনে নেই সেগুলো অন্য একটি কালি ব্যবহার করে একটু চিহ্ন করে রাখুন।সময় নিন ৪-৫ দিন।
  6. এবার ফাইনাল স্টেপে আপনি মুখস্ত করার মনোভাব তৈরী করে বই নিয়ে বসুন। তৃতীয়বারে যেগুলো আপনার কাছে মনে রাখা কঠিন মনে হয়েছিলো সেগুলোকে টানা মুখস্ত দিন। কিছু কিছু বইতে এই প্রসেস টিকে ATM বলে সম্বধোন করা হয়েছে।অর্থাৎ একটানা মুখস্ত পদ্ধতি।
  7. একই পদ্ধতিতে আপনি অন্য সালগুলো (২০০৯-২০০০) ধরুন। উপরের স্টেপগুলো ফলো করে একই ভাবে শেষ করে ফেলুন ২০০৯-২০০০ সাল পর্যন্ত ।

বোনাস টেকনিকঃ

  • পড়ার সময় কখনও ভাববেন না যে পরীক্ষার অনেক দেরি।
  • বরং এভাবে জব সল্যূশন পড়ুন যেন আজকের রাত পোহালে কাল সকালে পরীক্ষা । তাহলে দেখবেন আপনার সময় এর অপচয় হবেনা।
  • জব সল্যূশন শেষ করতে সর্বোচ্চা ৩৫ দিন এর বেশি সময় দেয়া উচিত হবেনা।এর বেশি দেয়াটা তো যুক্তিসংগত হবেই না , বরং চেষ্টা করা উচিত এর চেয়ে কম সময়ে কমপ্লিট করার। মনে রাখবেন ফাস্ট রিডিং ইজ দা বেষ্ট ওয়ে টু সাকসেস।
  • জব সল্যূশন ম্যাাক্সিমাম ৫/৭ বার রিভিশন করলেই ধরা যায় আপনার জব সল্যূশন কমপ্লিট।তার আগে পর্যন্ত আপনাকে লেগে থাকতে হবে।
  • জব সল্যূশন মুখস্ত করার সেরা সময় ভোর ৫ টা থেকে। তবে আপনি আপনার সুবিধা মতো টাইম ফিক্সড করে নিবেন।
  • বিশ্রাম নিন, খাওয়া দাওয়া করুন ঠিক মতো। পর্যাপ্ত ঘুমের কোন বিকল্প নেই।
  • ১ ঘন্টা কম পড়ে যদি ১ ঘন্ট বেশি ঘুম পাড়েন তাহলে আপনার মস্তিস্ক যে পরিমান একটিভ থাকতে পারবে তা আপনার সারা দিনের ওয়ার্ক গুলোকে আরো তিক্ষ্ণ করবে। তবে দিনের সময় টাতে কখনই ঘুম পাড়া উচিত নয় । একান্ত জরুরি হলে দুপুরে কিছুট বিশ্রাম নিতে পারেন ।

শেষকথাঃ

লেগে না থাকলে কোন কিছুই সম্ভব নয়। যত বার ব্যর্থ হবেন ততবার লেগে থাকুন, নতুন উদ্যমে । স্বপ্ন সার্থক হবেই, আপনি এই আশাটা মনের ভিতর জ্বিইয়ে রাখুন।ধন্যবাদ।

জব সল্যূশন কমপ্লিট করার সহজ কৌশল।
জব সল্যূশন পড়ার টেকনিক

frlmamun

আমি এফ. আর. আল-মামুন । আমারহাট ডট কম ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা । আমি সৃষ্টিশীল কাজ করতে পছন্দ করি এবং যারা সৃষ্টিশীল কাজ করে তাদেরকে ভালোবাসি । আপনিও যদি সৃষ্টিশীল কিছু করতে চান তাহলে আপনিও আমারহাটে আমন্ত্রিত!!! ধন্যবাদ।

Leave a Reply