বিসিএস প্রিলির জন্য আল্টিমেট কিছু কৌশল

যারা বিসিএস প্রিলির জন্য প্রস্তুতি নিবে বা নিচ্ছে তারা শুরু তে যে সকল ভুল করে সেগুলো দূর করতেই আজকের এই সংগৃহীত আর্টিকেল।


এই কৌশল গুলো মূলত ক্যাডারদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সংগ্রহ করে এখানে ধারাবাহিক ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

যারা নতুন বিসিএস দিবে বা দু একবার দিয়ে সফল হতে পারেনি তাদের জন্য এই গাইডলাইন গুলো খুবই উপকারী হবে।

এবার আল্টিমেট কৌশলগুলো নিচে এক এক করে তুলে ধরা হলো-


১ম কৌশল


মনে রাখবেন বিসিএস প্রস্তুতি আর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রস্তুতি সম্পূর্ণ আলাদা।

অনেক নতুন পরীক্ষার্থী বিসিএস প্রস্তুতি নিতে যেয়ে এমন গবেষণা শুরু করে দেয় যেনো সে ডক্টরেট ডিগ্রি নেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আসলে ভুলটা হয় ওখানেই। কারণ বিসিএস এ এত এত টপিক সিলেবাসে দেয়া রয়েছে যে এই বিশাল সিলেবাস রিসার্স করে পড়ে শেষ করা খুবই সময়সাপেক্ষ ।

তাই প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বেশি রিসার্স করতে যাওয়াটাই ভুল। আবার দেখা যায় যে যেই বিষয় এর ছাত্র সে সেই বিষয় এর উপর গভীর রিসার্স করে পড়তে থাকে, অথচ অন্য সাবজেক্ট গুলোর প্রতি কোনো নজর দেয়না।

আমি এখানে কনফিডেন্স এর পারিচালক বেলাল আহমেদ রাজু স্যারের একটি উক্তি বলতে চাই-

“বিসিএস এর সিলেবাস হচ্ছে এতটুকু যার উপরে আসমান নিচে জমিন। আর এর ভিতরে যা কিছু আছে তাই বিসিএস এর সিলেবাস।”


কথাটা আমার অনেক পছন্দ হয়েছিল। অতএব পড়ুন যতটুকু সিলেবাসের চাহিদা পূরণ করে ততটুকু। গবেষক হতে যাবার কোনো প্রয়োজন হবেনা।


২য় কৌশল


বোর্ড বই এবং বিগত সালের জব প্রশ্ন গুলোর প্রতি মূল ফোকাস রাখুন। আপনার যদি বোর্ড বই এবং বিগত প্রশ্ন গুলো ভালো আয়ত্তে থাকে তাহলে এটা আপনার জন্য প্লাস পয়েন্ট হবে।

তবে বিষয় হচ্ছে আপনাকে সকল বিষয়ের জন্যেই বোর্ড বই পড়তে হবেনা।

বিশেষ করে গণিত,বাংলা ব্যাকরণ, বিজ্ঞান এই সাবজেক্টগুলো তে বোর্ড বই বেশি বেশি ফলো করার চর্চা করবেন। কারণ এই সাবজেক্ট গুলোতে প্রায় ৬০%-৮০% প্রশ্ন বোর্ড বই এর আলোকেই হয়ে থাকে।


৩য় কৌশল


ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পড়াশুনা করুন। এমন অনেকে আছে যারা ১ সপ্তাহ এত বেশি পরিমাণ এ প্রস্তুতি গ্রহণ করে অথচ পরের ২-৩ সপ্তাহ আর কোনো প্রস্তুতি নেয় না।

এটি ভিষণ ক্ষতিকর হবে প্রস্তুতি নেবার ক্ষেত্রে। বরং আপনি এভাবে না করে প্রতিদিন প্রস্তুতি নিতে থাকবেন সেটা যদি ২ ঘন্টাও হয় ক্ষতি নেই।

কেননা এলোমেলো কিছুর চাইতে সাজানো গোছানো ধারাবাহিক কোনো কিছু করা বেশি কার্যকর।


৪র্থ কৌশল


অনেকে পেপার পত্রিকা আর মাসিক কারেন্ট বই গুলো এত বেশি পরিমানে পড়তে থাকে যে মূল প্রস্তুতি নেবার কথা ভূলেই যায়।

এখানে একটি বিষয় হচ্ছে প্রতি বিসিএস এ ৭/৮ টি কারেন্ট টপিক এর উপর প্রশ্ন হয় । সুতরাং আপনি পেপার,কারেন্ট এগুলো বেশি না পড়ে মূল প্রস্তুতির দিকে ফোকাস টা বেশি রাখুন।

এবং এতে করে আপনি অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকতে পারবেন।


৫ম কৌশল


প্রিলি এবং রিটেন কিছু কিছু টপিক প্রায় একরকম। অর্থাৎ আপনি প্রিলি পড়লেই সেগুলোতে রিটেনের প্রস্তুতি হয়ে যায়। এরকম টপিক গুলোর প্রতি বেশি ফোকাস রাখা খুব জরুরি।

কারণ রিটেন কে ঘিরেই নির্ধারিত হবে ক্যাডার পাওয়া বা না পাওয়ার বিষয়টি । সকলেই প্রিলির জন্য এত ব্যস্ত থাকে যে রিটেন নিয়ে ভাবার সময়ই পায় না।

এরকম হয়ে থাকলে এখন থেকেই মনোভাব পাল্টানোটি সবথেকে সেরা হবে।


৬ষ্ঠ কৌশল


হারতে শেখা উচিত সকল প্রার্থীকেই। পরীক্ষ নিয়ে সর্বাধিক চিন্তাটাই ব্যর্থতর অন্যতম কারণ হতে পারে।

টেনশন কে দমাবর একটা পথ হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা মনে মনে স্বীকার করে নেয়া । এতে দেখা যায় যে আর টেনশন থাকেনা।

যেমন যে উদ্দেশ্যে আপনি পড়ছেন ততে সব থেকে মন্দ কি ঘটতে পারে? হয়ত আপনি পাশ করতে পারবেন না, এটাই ঘটতে পারে ।

এর থেকে বেশি কিছু আর ঘটবেনা। এবার আপনি যদি মনে মনে এই পরাজয়টা মেনে নিয়ে প্রস্তুতি দিকে সর্বাত্মক এগিয়ে যেতে থাকেন তাহলে কোনো দুশ্চিন্তায় আর থাকবেনা।

কনফিডেন্স এর পরিচালক বেলাল আহমেদ রাজু স্যার তার সেমিনার গুলোতে মাঝে মাঝেই এই কথাটি বলে থাকেন।


৭ম কৌশল


টার্গেট ছোট ছোট লটে ভাগ করুন। অর্থাৎ একবারে ১ মাসের রুটিন করার থেকে আগামী ২৪ ঘন্টাতে কোন কোন টপিক পড়ে শেষ করা যেতে পারে সেই রুটিন করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এতে করে টার্গেট পূরণ করা টা যেমন সহজ হয়ে যায় তেমনি একটি একটি করে টার্গেট পূরণ হলে আপনার মনোবল ও বেড়ে যাবে।

মাঝে মাঝে রুটিন এ পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা যেতে পারে । এতে পড়ায় একঘেয়ামি দূর হবে।


৮ম কৌশল


রিভিশন এবং আবারও রিভিশন। বিসিএস পরীক্ষাতে কেবল মেধাবীরাই উত্তীর্ণ হবে এমন কোনো নিয়ম নেই।

এখানে সফলতা নির্ভর করে আপনার ধৈর্য, পরিশ্রম এবং কতবার রিভিশন করলেন পড়া গুলো তার উপর।

এজন্য দেখা যায় প্রতিবার যারা ক্যাডার পাচ্ছে তাদের অনেকের পূর্বের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড খুব বেশি একটা মজবুত ছিলো না।

কিন্তু বিসিএস এ এসে ধৈর্য আর পরিশ্রমের ফলে সফল হতে পেরেছে।


৯ম কৌশল


ঘুম , খাওয়া-দাওয়া এবং বিশ্রাম পর্যাপ্ত পরিমানে করুন। এটা এমন একটি কৌশল সফল হবার যা অনেকেই গুরুত্ব দেয়না । কিন্তু এটা খুবই জরুরি।

আপনি যা পড়বেন তা তখনই কার্যকর হবে যখন আপনি শরীর ও মনের সঙ্গে ব্যালেন্স বজায় রেখে পড়বেন। তাই এটার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত প্রতিটি প্রার্থীরই।


১০ কৌশল


বাসায় বা কোচিং যেখানে সম্ভব বেশি বেশি মডেল টেস্ট দেয়া একটি গুরুত্বপূ্র্ণ বিষয়। এটা আপনার প্র্যাকটিস কে আরো ধারালো করতে সহায়তা করবে।

বাজারে অনেক মডেল টেস্ট এর বই পাওয়া যায়। সবগুলোই যে মান সম্মত তা নয়।

এজন্য বাসায় মডেল টেস্ট দেবার সময় ভালো মানের মডেল টেস্ট বই বাছাই করে পরীক্ষা দেয় উচিত ।

আর পরীক্ষ দেবার সময় অবশ্যই ঘড়ি ধরে পরীক্ষা দেবার চেষ্টা করতে হবে।


শেষকথা


বিসিএস একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এখানে কেবল ধৈর্যশীল এবং পরিশ্রমীরাইা সফল হয় । কেবলে মেধা দিয়েই জয় করা খুব একটা সহজ নয়।

অনেক বিসিএস ক্যাডারদের বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর তারা এটা বলেছে যে বিসিএস এ এগিয়ে থাকতে মুখস্ত নির্ভর পড়াশোনার বিকল্প কিছুই নেই।

যাদের মুখস্ত করার ক্ষমত বেশি তারা স্বাভাবিক ভাবেই অন্যদের চাইতে বেশি এগিয়ে থাকবে।

তাই সবশেষে বলতে চাই যে একটানা মুখস্ত পদ্ধতির ব্যবহার আপনার প্রস্তুতিকে শার্প করবে এবং এটা আপনাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

বিসিএস প্রিলির জন্য আল্টিমেট কিছু কৌশল
বিসিএস প্রিলির জন্য আল্টিমেট কিছু কৌশল

frlmamun

আমি এফ. আর. আল-মামুন । আমারহাট ডট কম ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা । আমি সৃষ্টিশীল কাজ করতে পছন্দ করি এবং যারা সৃষ্টিশীল কাজ করে তাদেরকে ভালোবাসি । আপনিও যদি সৃষ্টিশীল কিছু করতে চান তাহলে আপনিও আমারহাটে আমন্ত্রিত!!! ধন্যবাদ।

This Post Has One Comment

  1. ৪১তম বিসিএসের প্রিলি জুনে। দেশ জুড়ে ৪ লাখ ৭৫ হাজার বিসিএস প্রত্যাশীদের চোখে ঘুম নেই। যে যেভাবে পারছেন ৪১তম বিসিএস প্রিলির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। তবে ৪১তম বিসিএস প্রিলির তারিখ নিয়ে তাদের যেন দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
    বিস্তারিতঃ t.ly/xqpAp

Leave a Reply