৪২ তম বিসিএস এ নতুন প্রার্থীদের এখন থেকেই যা করনীয়

এটি একটি সংগৃহীত আর্টিকেল। যা কেবল ৪২ তম বিসিএস প্রার্থীদের করনীয় বিষয়বলীর উপর সাজানো হয়েছে। লেখক বিভিন্ন ফোরাম থেকে ক্যাডার দের উক্তি বা সাজেশন গুলোকে এখানে একত্রিত করেছে মাত্র।


পরীক্ষার জন্য আপনাকে ধারাবাহিক যা যা করতে হবে তার একটি ম্যাপ নিচে দেয়া হলো


১. বিসিএস প্রিলিমিনারি এর সিলেবাসটি সংগ্রহ করে একবার ভালো করে দেখে এবং বুঝে নিন।
এরপর আপনি একনজর রিটেন এর সিলেবাসটি দেখবেন।

প্রিলির সাথে রিটেন এর কি কি টপিক মিলে সেগুলোতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।

কারণ যখন আপনি প্রলি পড়বেন এর সাথে কিছু কিছু করে রিটেনও মিলিয়ে পড়ে ফেলতে চেষ্টা করবেন।

এতে আপনার রিটেনের প্রস্তুতি সহজ হয়ে যাবে।


এক্ষেত্রে আমি কনফিডেন্স কোচিং সেন্টারের পরিচালক বেলাল আহমেদ রাজু স্যার এর একটি উক্তি তুলে ধরছি “প্রার্থীরা প্রিলির সময় প্রিলি পড়ে আর রিটেনের সময় রিটেন পড়ে।

এজন্য আগের বছরের যারা পরীক্ষার্থী তাদের সাথে নতুনরা প্রথমবার কমপিটিশন এ যেতে পারেনা। কারণ আগের বছর এর পরীক্ষার্থীদের প্রিলি রিটেন দুটোই মোটামোটি আয়ত্তে থাকে।

আর এজন্য নতুনদের অধিকাংশই প্রথমবার সফল হতে ব্যর্থ হয়। ”


২. একটি প্রশ্ন ব্যাংক সংগ্রহ করে প্রশ্ন ব্যাংকটি মনোযোগ দিয়ে ব্যাখ্যা সহ পড়ুন। এতে আপনার ধারনা হয়ে যাবে যে কি ধরনের প্রশ্ন প্রিলিতে আসে।


৩. একটি বাংলাদেশের ও একটি আন্তর্জাতিক মানচিত্র সংগ্রহে রাখুন।


৪. একটি বাংলাদেশের সংবিধান সংগ্রহ করে নিজের কাছে রাখুন।
যারা ৪২ তম এক্সাম দিবেন তারা এখন থেকেই নিচের কাজগুলো পরিপূর্ণ ভাবে অনুসরণ করবেন।

১ম কাজঃ প্রয়োজনীয় বোর্ড বইগুলো প্রথমেই সংগ্রহ করা


বিসিএস প্রস্তুতির জন্য আপনাকে কোর বই গুলো সম্পর্কে ভালো নলেজ রাখতে হবে। আপনি এজন্য বোর্ড বই গুলো সংগ্রহ করে একটি একটি করে বই দাগিয়ে দাগিয়ে পড়তে শুরু করুন এখন থেকেই।

আমি নিচে বোর্ড বইগুলোর তালিকা দিয়ে দিচ্ছি আপনারা এগুলো সংগ্রহ করে পড়া শুরু করুন।

  • ৭ম ও ৮ম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি
  • ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ
  • ইংলিশ গ্রামার এবং কম্পোজিশন বই ৯ম-১০ম শ্রেণি
  • ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইটি
  • ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত কৃষি শিক্ষা বইটি
  • বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইটি ৯ম-১০ম শ্রেণির
  • ৯ম-১০ম শ্রেণির ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বইটি
  • ৯ম-১০ম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই
  • ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞান বই
  • তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বইটি ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ বইটি
  • ৯ম-১০ম শ্রেণির জীববিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান বইটি
  • ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণির গণিত বই
  • ৯ম-দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উচ্চতর গণিত বই
  • ৯ম-১০ম শ্রেণির পৌরনীতি
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন বইটি
  • এর সাথে লাল নীল দীপাবলি এবং কতো নদী সরোবর এই বই দুটিও সংগ্রহ করা যেতে পারে।

এই বইগুলো অবশ্যই একজন প্রর্থী নিজে নিজে সংগ্রহ করে পড়া শুরু করবে।


বোর্ড বই পড়ার নিয়ম

প্রথমে একটি একটি করে বই দাগিয়ে দাগিয়ে পড়তে হবে।

প্রথমবার বই গুলো শেষ হলে দ্বীতিয়বার আবার বইগুলো হাতে নিয়ে পুনরায় পড়তে হবে।

এবার যে টপিকগুলো কম মনে থাকছে সেগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। পড়ার সময় বিসিএস এর সিলেবাস পাশে রেখে মিলিয়ে মিলিয়ে সিলেবাসের টপিক গুলো বেশি বেশি পড়তে হবে।

দ্বীতিয়বার বইগুলো শেষ হলে আবারও নতুন করে বইটি হাতে নিয়ে যেগুলো মনে রাখতে বেশি অসুবিধা হয় সেগুলোই বার বার পড়তে হবে।

এভাবে তিন-চার বার শেষ করার পর গাইড বই গুলো পড়া শুরু করতে হবে।


২য় কাজঃ ১সেট গাইড বই সংগ্রহ করা

অনেক নতুন প্রার্থীর এমন অবস্থা হয় যে বই কিনতে কিনতে একদম টেবিল লোড করে ফেলে। আবার এমন ও করে যে বাংলা বিষয় এর উপরই ৩/৪ টা গাইড বই কিনে ফেলে।

এগুলো মোটেও ঠিক নয়। কারন এভাবে ৩/৪ টা গাইড কিনলে শেষ পর্যন্ত কোনোটাই পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয় না।

তাই গাইড কিনতে হবে যে কোন ১ সেট হতে পারে সেটা প্রফেসর, এমপি থ্রি, ‍ওরাকল, কনফিডেন্স বা অন্য যে কোনো প্রকাশনীর।

এক্ষেত্রে একটু মনে রাখতে হবে গাইডের আকার যত চিকন হয় ততোই ভালো । মোটা মোটা গাইডে সিলেবাসের অতিরিক্ত টপিক দেয়া থাকে যা কেবল সময় এর অপচয় ঘটায়।

তাই গাইড কিনবেন আপনার যেটা খুশি সেটা তবে আকারে একটু চিকন হলে ভালো হবে। ১ সেট গাইড পুরোটা কেনাই ভালো ।


গাইড পড়ার নিয়ম


সিলেবাসের সাথে মিল রেখে প্রথমেই থিওরিটিক্যাল টপিকগুলো বুঝে নিতে হবে।

এরপর প্রতিটি টপিক শেষে যে বিগত সালের প্রশ্ন গুলো দেয়া আছে সেগুলো মুখস্ত করে ফেলতে হবে।

থিওরিটিক্যাল আলোচনা গুলো আপনার যখন আয়ত্তে চলে আসবে তখন শুধু বেশি বেশি গাইড বইয়ের প্রশ্নগুলো পড়তে থাকবেন।

মনে রাখবেন গাইডের প্রশ্নগুলো আপনার যত আয়ত্তে থাকবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি আপনার তত জোরালো হবে।

এজন্য থিওরিটিক্যাল টপিক শেখার পর পরই বিভিন্ন জবের প্রশ্ন বিগত সালের বেশি বেশি পড়ে নিন।


৩য় কাজঃ বেশি বেশি পড়া গুলো রিভিশন করা


আপনার যখন বোর্ড বই এবং গাইড সম্পূর্ণ আয়ত্তে এসে যাবে তখন আপনি যত বার সম্ভব রিভিশন দিতে থাকুন।

এক্ষেত্রে আমি পরিক্রমা কোচিং সেন্টার এর পরিচালক এর একটি উক্তি তুলে ধরছি


“কোন প্রার্থী যদি আমাকে বলে যে আমি তিনবার রিভিশন দিয়েছি তাহলে আমি বলব তার পড়া আয়ত্তে আসেনি, যতক্ষণ না সে ৫-৭ বার ওই একই পড়া রিভিশন করছে। ”


৪র্থ কাজঃ পড়ার সময় মানচিত্র, ছন্দ, কৌশল এর ব্যবহার করা


গল্প আকারে যখন কিছু পড়া হয় তখন তা অনেক দিন মনে থাকে। আর পড়ার সময় বিশেষ করে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক এ মানচিত্র ব্যবহার করে পড়লে তা বেশি কার্যকর হয়।

আপনার একবার বা দুইবারে কোনো কিছুই আয়ত্তে আসতে চাইবেনা ।

এজন্য আপনি একবার বা দুইবার পড়েই হাল ছেড়ে দিবেন না।

বরং আপনি বার বার পড়া গুলো রিপিট করতে থাকুন।


যারা এখন থেকেই ৪২ তম এর প্রস্তুতি নিতে চায় তাদের হাতে সময় আছে । এজন্য নতুন দের উচিত এই সময় গুলোকে সঠিক ভাবে কাজে লাগানো এবং সিলেবাস অনুযায়ী বিস্তারিত বুঝে বুঝে আয়ত্তকরা।


শেষকথা


৪২ তম বিসিএস যাদের নতুন বিসিএস তারা যদি এখন থেকেই একটি সঠিক গাইডলাইন অনুযায়ী তাদের প্রস্তুতি গুলোকে তৈরী করে নিতে না পারে তাহলে মাঝামাঝি সময়ে গিয়ে তা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।

তাই যারা নতুন বিসিএস দিবে তারা এখন থেকেই একটি সঠিক রুটিন অনুসরণ করে প্রস্তুতি নিলে সবথেকে শ্রেয় হবে।

৪২ তম বিসিএস এ নতুন প্রার্থীদের এখন থেকেই যা করনীয়
৪২তম বিসিএস নতুন প্রার্থীদের করণীয়

frlmamun

আমি এফ. আর. আল-মামুন । আমারহাট ডট কম ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা । আমি সৃষ্টিশীল কাজ করতে পছন্দ করি এবং যারা সৃষ্টিশীল কাজ করে তাদেরকে ভালোবাসি । আপনিও যদি সৃষ্টিশীল কিছু করতে চান তাহলে আপনিও আমারহাটে আমন্ত্রিত!!! ধন্যবাদ।

Leave a Reply